গত শুক্রবার ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন সুপ্রিম কোর্ট। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই এক নির্বাহী আদেশে মঙ্গলবার থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকরের নির্দেশ দেন ট্রাম্প। এর পরদিন অর্থাৎ গত শনিবার তিনি এ হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করারও হুমকি দেন। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ১৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা এখনো বহাল আছে। তবে তা কার্যকরের নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি।
এদিকে সরকারি নথি অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে কম হারে ধার্য করা শুল্কই কার্যকর হয়েছে। এ শুল্ক বাড়ানোর কোনো নির্দেশনাও দেয়া হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর হয়েছে ১০ শতাংশ হারে।
মার্কিন প্রশাসন ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ শুল্ক আরোপ করছে। এ আইনে ১৫০ দিন পর্যন্ত কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা রয়েছে।
এতে কেবল বিশৃঙ্খলা বাড়ছে বলে মনে করেন বিনিয়োগ ব্যাংক আইএনজির বিশ্লেষক কারস্টেন ব্রজেস্কি। এত ঘন ঘন শুল্কহার পরিবর্তন হওয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ভালো নয় বলেই মনে করেন তিনি।
বিবিসির ‘টুডে’ প্রোগ্রামে কারস্টেন বলেন, ‘অস্পষ্টতার দিক থেকে আমরা আবারো গত বছরের অবস্থায় ফিরে গেছি। এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অংশীদাররা পাল্টা পদক্ষেপ নেবে, এমন ঝুঁকি আরো বেড়েছে। পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যযুদ্ধের সম্ভাবনা আগের চেয়ে নিশ্চিতভাবেই বেশি।’
শুক্রবারের নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেছিলেন, এ অস্থায়ী ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কের উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক অর্থ পরিশোধের মূল সমস্যাগুলো আমলে নেয়া এবং দেশের কৃষক, শ্রমিক ও উৎপাদকদের সুবিধা দেয়ার জন্য বাণিজ্য সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করতে প্রশাসনের কাজ চালিয়ে যাওয়া। এর পেছনে তার যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে শুল্ক আরোপ জরুরি।
তবে ট্রাম্পের চেষ্টার পরও দেশটিতে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েই চলেছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে।
যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্টের (আইইইপিএ) আওতায় শুল্ক আরোপ করে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে অন্তত ১৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক সংগ্রহ করেছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলোকে শুল্কের এ বিশাল পরিমাণ অর্থ ফেরত দেয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন অর্থ ফেরত দেবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ ট্রাম্প গত শুক্রবারেই বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে ‘আগামী পাঁচ বছর’ আদালতে আইনি লড়াই হবে।